October 23, 2026, 6:45 pm
এম আর মাসফি: জার্মানিতে বাংলাদেশি চ্যান্সারী ভবন নির্মাণ করতে ২০১৮ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি পাস হয়। কিন্তু পাশ হওয়ার পর থেকে প্রায় আড়াই বছরে নকশা তৈরি ছাড়া প্রকল্পটির কোনো অগ্রগতি হয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন করে আবারও প্রকল্পটির শেষ করতে সাড়ে ৩ বছর সময় চেয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের অবস্থা জানিয়ে মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব গত ৭ মার্চ পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) কাজে চিঠি দেয়। তাতে জানা গেছে, জার্মানির বার্লিনে বাংলাদেশ চ্যান্সারী ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর একনেকে অনুমোদন দেয়। ১০৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা খরচের এই প্রকল্পটির সম্পূর্ণ সরকারী অর্থায়ন। চলতি ২০২১ সালের জুনে প্রকল্পটি সমাপ্ত হওয়ার কথা। কিন্তু গত জানুয়ারী পর্যন্ত ২ বছর সাত মাসে কাজ হয়েছে মাত্র ২.০৭ শতাংশ। যা শুধু অর্থিক ব্যয়ের অগ্রগতি। প্রকল্পে বাস্তবিক কোন অগ্রগতিই হয়নি এখনও।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে আরো জানা গেছে, মূল চ্যান্সারী ভবনের নির্মাণ কাজ এখনো, অর্থাৎ মার্চ পর্যন্ত শুরুই হয়নি। অথচ প্রকল্পের মেয়াদ আছে মাত্র ৩ মাস। প্রকল্পের নকসা প্রনীত হয়েছে। চলতি বছর আগষ্ট সেপ্টেম্বর নাগাদ জার্মান সরকারের অনুমোদন পাওয়া যাবে। অর্থাৎ ওই অনুমোদন পেতে প্রকল্পের মূল মেয়াদ শেষ। এরপর দরপত্র আহŸান করে ডিসেম্বরে নির্মাণ কাজে ঠিকাদার নিয়োগ করা সম্ভব হবে। তবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে। পরামর্শকের মাধ্যমে ভবন নির্মাণের নকসা তৈরী করা হয়েছে। অন্যান্য কাজ, যেমন, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি ভবন নিমাণের সাথে সম্পর্কিত। তাই ওগুলোর কাজ এখনো শুরু হয়নি। ১০৯ কোটি টাকার প্রকল্পে গত ২ বছর সাত মাসে থরচ হয়েছে ২ কোটি ২৭ লাখ ১২ হাজার টাকা।
মেয়াদ বাড়ানোর যুক্তি তুলে ধরে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় বলেছে, তাদের প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে কোনোরূপ নকসা প্রণয়ন ছাড়াই জমির অনুপাতে দেশ ভিত্তিক প্রতি বর্গ মিটার খরচ বিবেচনা করে একটি ধারণামূরক প্রাক্কলন করা হয়। সেটার উপর ভিত্তি করে একটি উন্নয়ন প্রর্কপ প্রস্তাবনা (ডিপিপি) প্রণয়ন করা হয়। প্রকল্প অনুমোদনের পর প্রতিযোগীতামূলক দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়। তারপর তাদের দিয়ে নকশা প্রণয়ন, অনুমোদন গ্রহণ, প্রাক্কলন ও বিল অফ কোয়ানটিটিস তৈরী করা হয়। এরপর নির্মাণ কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। এই সব নির্মাণ কাজ শুরুর আগে প্রাথমিক কাজ সমূহ সম্পন্ন করতেই ২ থেকে তিন বছর সময়ের প্রয়োজন হয়।
জানা গেছে, প্রাথমিক স্থাপত্য নকশা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছে। বর্তমানে বিশদ স্থাপত্য নকশা প্রনয়নের কাজ চলমান আছে। প্রকল্পের অবকাঠামো নিমাণ কাজ শেষ করতে প্রায় ২১ মাস সময়ের প্রয়োজন হবে। ২০২৪ সালের আগষ্ট মাসে উদ্বোধনের আশাবাদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। ফলে ২০২৪ সারের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ বাাড়নোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
কাজ দেরি হওয়ার ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, জার্মান সরকারের আইন অনুযায়ী মোট ১১ ধাপে নকাস প্রণয়ন ও নির্মাণ তদারকি সম্পন্ন করতে হয়। এতে অনেক বেশি সময় ব্যয় হয়। আর জার্মানীতে বাংলাদেশ সরকারের ক্রয় সংক্রান্ত বিধি বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করে পরামর্শক নিয়োগ প্রস্তাব আহ্বান করতেই প্রায় ১০ মাস সময় লেগেছে। মূল্যায়ন কমিটির সদস্যদের সুবিধাজনক সময়ে বার্লিন ভ্রমন করতে ২/৩ মাস অতিরিক্ত সময় ব্যয় হয়েছে।
এছাড়া পামর্শক প্রতিষ্টানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই করোনা মহামারীর কারণে বাংলাদেশ ও জার্মানিতে প্রলম্বিত লকডাউন ও সীমিত আকারে দাফতরিক কর্মকান্ড পরিচালিত হয়। ফলে চার মাসের বেশি সময় কাজ হয়নি। নকশা প্রনয়ন করতে সাত মাস লেগেছে। নভেম্বরে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আবির্ভূত হওয়ায় জার্মানিতে স্বাভাবিক কর্মকান্ডের উপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়। সেই লকডাউন এখনো বলবৎ আছে।
এ বিষয়ে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) পরিচালক আশরাফুল ইসলাম বিজনেস নিউজকে বলেন, সরকারী খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন পদ্ধতি অনুযায়ী ১মবার ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়াই প্রকল্পের মেয়াদ এক বছরের বেশি সময় বৃদ্ধির অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ পরিকল্পনা কমিশন। কিন্তু ৩.১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এক্ষেত্রে প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের বাস্তবায়ন অগ্রগতির উপর আইএমইডির মতামত প্রয়োজন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য মতে, প্রকল্পের অগ্রগতি বিবেচনায় প্রস্তাবিত মেয়াদ বৃদ্ধির যৌক্তিকতা আছে। তবে প্রকল্পের কাজ একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা করে দ্রুত শেষ করতে হবে।
বিজনেস নিউজ/এসআর